Hathazari Sangbad
হাটহাজারীসোমবার , ২৬ জুন ২০২৩

কাবাঘর তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ধর্ম ডেস্ক
জুন ২৬, ২০২৩ ৩:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহামারী পেরিয়ে স্বাভাবিক সময়ের মতো হজ হচ্ছে এবার, তার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল কাবাঘর তাওয়াফের মধ্য দিয়ে।
 
মিনায় অবস্থান নেওয়ার আগে রোববার বিকালে হজ পালনেচ্ছুরা মক্কায় কাবাঘর তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন বলে সৌদি গেজেট জানিয়েছে।
 
এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০ লাখের বেশি মুসলমান হজ পালনে সৌদি আরব গেছেন। এই সংখ্যা গত বছরের দ্বিগুণের বেশি।
 
করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর ২০২০ ও ২০২১ সালে হজ হয়েছিল সীমিত পরিসরে; তাকে অন্য কোনো দেশ থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ২০২২ সালে বিদেশিদের জন্য হজের দ্বার সৌদি সরকার খুললেও ১০ লাখের বেশি মুসলমানকে অনুমতি দেয়নি।
 
এবার পুরোপুরি স্বাভাবিক সময়ের মতো হজ হচ্ছে। তাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন হজ করতে পৌঁছেছেন বলে সৌদি আরব সরকারকে উদ্ধৃত করে আরব নিউজ জানিয়েছে। এই ১৬ লাখের মধ্যে ১ লাখ গেছেন বাংলাদেশ থেকে।
 
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, হজ পালনে ৬০ হাজার ৬১৭ জন সেখানে পৌঁছেছেন স্থলবন্দর দিয়ে, সমুদ্রবন্দর দিয়ে পৌঁছেছেন ৬ হাজার ৮৩০ জন। বাকি সবাই গেছেন বিমান পথে।
 
হজ ফ্লাইট নিয়ে বিড়ম্বনার অবসান-
কাবাঘর তাওয়াফের পর রোববার সন্ধ্যা থেকেই সবাই জড়ো হতে শুরু করবেন ৫ কিলোমিটার দূরের তাঁবুনগরী মিনায়। সাদা কাপড়ে আচ্ছাদিত বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তার লাখো মুসলমান কেউ বাসে, কেউ গাড়িতে, কেউবা হেঁটে মিনার পথে রওনা হবেন। তাদের সবার মুখে থাকবে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি।
 
সোমবার সারাদিন এবং রাত তারা মিনায় কাটাবেন ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে দিয়ে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তারা জিকির করবেন, নামাজ পড়বেন জামাতের সঙ্গে।
 
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য মঙ্গলবার সকালে তারা সমবেত হবেন প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত আরাফাতের ময়দানে। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন।
চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত।
 
মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন।
 
মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে পুনর্মিলনের পর এই আরাফাতের ময়দানে এসে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ১৪ শ’ বছরের বেশি সময় আগে এখানেই ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ।
 
এই আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হয় স্বল্প সময়ের জন্য।
 
ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হল হজ।
 
আরাফাত থেকে মিনায় ফেরার পথে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন সমবেত মুসলমানরা। মুজদালিফায় রাতে থাকার সময় তারা পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হবে।
 
বুধবার সকালে মিনায় ফিরে সেই পাথর তারা প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়বেন। এরপর কোরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন এবং সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।