Hathazari Sangbad
হাটহাজারীরবিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৩

সড়কে ৪১৭ প্রাণ ঝরেছে এই সেপ্টেম্বরে, আহত ৭৮৩ জন

অনলাইন ডেস্ক:
অক্টোবর ৮, ২০২৩ ৬:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সড়কে বাড়ছে লাশের মিছিল। প্রতিদিনই নতুন নতুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সড়কে। গত সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৪১৭ প্রাণ। অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ ও নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং, ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতি কাড়ছে মানুষের প্রাণ। সড়ক ব্যবস্থাপনা ঢেলে না সাজালে এ সচেতনতা তৈরি না বলে মনে করেন সড়ক বিশ্লেষকরা।

গত সেপ্টেম্বরে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন হয়েছেন। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন ৭৮৩ জন। রোববার (৮ অক্টোবর) সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।  সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও আহত নিহতের সংখ্যা জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।  তাদের পরিসংখ্যান বলছে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে ৪১৭ জন নিহত ও ৭৫১ জন আহত হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্ঘটনার সংখ্যা কম করে দেখিয়েছে। বিআরটিএ বলছে গত সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ৩০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৪১৬ জন যাত্রী ও পথচারী। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব থেকে সেখানে ৯৪ জন কম দেখানো হয়েছে। সরকারি সংস্থার এমন হিসাব প্রমাণ করে তারা জনগণের জীবন নিয়ে খেলা করতেই বেশি ভালোবাসে?

এছাড়াও সড়কে এমন প্রাণঘাতীর মূলে রয়েছে বেপরোয়া গতি। এমনটিই উঠে এসেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির গবেষণা থেকে। কল্যাণ সমিতি বলছে, সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক অবাধ চলাচল ছাড়াও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া যা দুর্ঘটনার অন্যতম  একটি কারণ। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে  অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক। যানবাহনের মালিকরা তাদের পরিবহন ভাড়ায় চালাতে বেশি পছন্দ করেন। বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা না দিয়ে নগদ টাকা গুনে নিতেই মালিকদের এই উদ্যোগ। ফলে, সারা দিনের টাকা তুলতে বেশি বেশি ট্রিপ মারার প্রবণতায় সব ধরনের আইন অমান্য করে চলে এসব যানবাহন। তাদের এই বেপরোয়া গতির শিকার হন সাধারণ মানুষ ফলে দিনকে দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে লিখিত নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। কোনোভাবেই চুক্তিতে গাড়ি দেওয়া যাবে না আবার বেতন ছাড়া চালক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেই তা মানা হয় না। সড়কে এমন অনিয়ম নিত্যনৈমিত্তিক হলেও টাকা দিয়ে ট্রাফিকরা তার বৈধতা দিয়ে থাকেন। এদিকে অধিক ট্রিপের লোভ আর কন্ট্রাকের টাকা তুলতে নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১২৬টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে এবং নতুন করে ১৮টি বাঁক প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় পথচারীদের ক্রসিংয়ের উন্নয়ন, মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ করতে ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, বাঁক সরলীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সংস্কার, সিগন্যালিং, রোড মার্কিং স্থাপন, সাইন সিগন্যাল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে।

বিআরটিএ এর তথ্যমতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেল বাদে যানবাহন রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিশাল সংখ্যক এই পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য মাত্র এক জন উপ-পরিচালক ১১ জন কর্মকর্তা নিয়ে কাজ করছেন। ফলে প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস যাচাই করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য-

সংস্থাটি বলছে, দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯৪ জনের মধ্যে ৪৮ জন নারী ৫৩ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। সেপ্টেম্বরে মোট ১৬৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫১ জন। যা মোট নিহতদের ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে ১২১টি দুর্ঘটনায় ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, ২০টি। সবচেয়ে কম প্রাণহানি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, ২৩ জনের। একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬ জন ও নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন। এ ছাড়া ৩৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন।