Hathazari Sangbad
হাটহাজারীবুধবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৩

লাল এক হাজার টাকার নোট বাতিলের ভুয়া ‘নোটিশ’

অনলাইন ডেস্ক:
অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ১:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিল হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে কথা ছড়িয়েছে, তাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘বিশেষ নোটিশ’ অনেকে শেয়ার করে। এরপর ‘এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক’- এমন তথ্য প্রচার করে বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশন।

তবে বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জী এম আবুল কালাম আজাদ।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট বাতিলের বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর খবর দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ভুয়া, বানোয়াট। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো নির্দেশনাও দেয়া হয়নি।’

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জী এম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট আগামী ৩০-০৫-২০২২ তারিখের পর অচল হিসেবে গণ্য হবে মর্মে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

‘এক্ষণে জনসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট বা অন্য কোনো নোট অচল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। জনসাধারণকে উক্ত গুজব/বিভ্রান্তিকর তথ্য আমলে না নেয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নোটিশটি ছড়ানো হচ্ছে, তাতে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশক্রমে ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট লেনেদেনের সর্বশেষ সময়সীমা ৩০ মে ২০২২ পর্যন্ত। এরপর আর কোনো ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা নেয়া হবে না। সুতরাং এই তারিখে দুপুর ১২টার মধ্যে ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেয়া নির্দেশ প্রদান করা হলো। ‘পরবর্তী দিন হতে ১০০০ টাকার নোট অচল বলে গণ্য হবে।’

একটি সাদা কাগজে এই নোটিশের নিচে একাব্বর আলী নামে একজনের সই আছে। সিলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জামালপুরের একটি শাখার নাম দেয়া আছে। তবে কোন শাখা, সেটি স্পষ্ট নয়।

জামালপুর কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তাদের শাখা থেকে এমন কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি।

একাব্বর নামে কোনো কর্মকর্তা আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলার মেলান্দহ উপজেলার ভাবকী শাখার একজন ব্যবস্থাপক আছেন এই নামে।

পরে একাব্বরের সাথে কথা বলে জানা যায় , তিনিও এই বিষয়টি শুনেছেন যে এমন নোটিশ প্রচার হয়েছে। তিনি এর একটি প্রতিবাদও দিয়েছেন।

সেই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘আমি মোহাম্মদ একাব্বর আলী, ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ভাবকী বাজার শাখা এই মর্মে হলফ করে বলছি যে, ১০০০ টাকার লাল নোট ৩০/৫/২০২২ ইং তারিখ হতে অচল বলে যে দৃষ্টি আকর্ষণ বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা অত্র শাখা হতে প্রচার করা হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জী এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে; যার ফলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে।’

বাংলাদেশে এক হাজার টাকার দুটি নোট প্রচলিত আছে। এর মধ্যে একটি লালচে এবং অন্য নোটটি কিছুটা বেগুনি রঙের।