Hathazari Sangbad
হাটহাজারীমঙ্গলবার , ২ জানুয়ারি ২০২৪

হঠাৎ কেন নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন জাপার প্রার্থীরা?

অনলাইন ডেস্ক:
জানুয়ারি ২, ২০২৪ ৭:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। গত ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ২৫৭ আসনে প্রার্থী ছিল দলটির। ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়ে ৯ আসনের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া ২৬ আসনের বাইরে কেবল ৮ থেকে ১০টি আসনে দলের প্রার্থীরা শক্তভাবে মাঠে আছে। বাকি আসনগুলোতে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের অবস্থান নেই বললেই চলে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-৫ আসনের প্রার্থী নিয়াজ উদ্দিন, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৫ আসনের ইকবাল হোসেন তাপস, বরগুনা-১ আসনের খলিলুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সোহরাব হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) জাকির হোসেন, নাটোর-৪ আসনের আলাউদ্দিন মৃধা ও গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

পার্টির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের শুরুতে প্রার্থীদের দল থেকে আর্থিক সাপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এজন্য তারা মাঠে নেমেছিলেন। শুরুতে নিজেদের টাকা খরচ করে অনেক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু প্রার্থীরা এখন দলের প্রতিশ্রুত আর্থিক সাপোর্ট পাচ্ছেন না। যার ফলে অনেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। আবার অনেকে মান-সম্মান ও চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া, এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকেও প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেই প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। বর্তমানে দলটির কতজন প্রার্থী মাঠে আছে, তার সঠিক হিসাবও কেন্দ্রের কাছে নেই!

জাতীয় পার্টির কত প্রার্থী নির্বাচনে আছে— জানতে চাইলে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহির ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২৫৭ আসনে জাপার প্রার্থী ছিল। কয়েকজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন মনে হয় ২৪৭-৪৮ জনের মতো প্রার্থী মাঠে আছেন।

প্রার্থীরা দলের কাছে কী ধরনের সহায়তা চাচ্ছেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রার্থীরা কেন্দ্রের কাছে কিছু আর্থিক সহায়তা চাচ্ছেন। সব দল তো দেয়, আমাদের দলের প্রার্থীরাও ধারণা করেছেন— এখানে থেকে কিছু আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রথমদিকে দল থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সেটা আর বাস্তবায়ন করতে পারছে না। দল ভেবেছিল কোথাও না কোথাও থেকে টাকা পাবে বা ম্যানেজ করতে পারবে। কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত হয়নি। যার ফলে কেন্দ্র প্রার্থীদের সাপোর্ট দিতে পারছে না। এতে সারা দেশের প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন— আমাদের নির্বাচনে নামাল, এখন সহযোগিতা করছে না। নিজেদের টাকা-পয়সা খরচ করেছি। কেন্দ্র থেকে কিছু সহযোগিতা পেয়ে নির্বাচনের বাকি খরচ করব আশা ছিল; এখন সেটাও পাচ্ছি না।

আওয়ামী লীগের ছাড় দেওয়া ২৬ আসনের বাইরে জাপার ৮ থেকে ১০ জনের বেশি প্রার্থী মাঠে সক্রিয় নেই— এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। মাঠে থাকতে গেলে যেমন কর্মী বাহিনী দরকার, ঠিক তেমনি সেই কর্মী বাহিনী পরিচালনা করতে গেলে ভালো আর্থিক সাপোর্ট দরকার। সেটা তো আমাদের প্রার্থীদের নেই। তারা কীভাবে মুভ করবেন। নির্বাচনী মাঠে ৫০ লাখ টাকা খরচ করবেন এমন প্রার্থীই তো নেই। হয়ত ৪-৫ লাখ বা ১০ লাখ টাকা খরচের মতো প্রার্থী আছে। বর্তমান সময়ে এই পরিমাণ টাকা তো পোস্টার আর মাইকিং করতেই চলে যায়।

দলীয় প্রার্থীদের মাঠে ধরে রাখার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না— জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, সেই রকম কোনো পরিকল্পনা তো দেখছি না। প্রার্থীদের মাঠে ধরে রাখার পরিকল্পনা থাকলে তো আর্থিক সাপোর্ট দিত। সেই সাপোর্ট তো দিতে পারছে না। যে কারণে প্রার্থীরা যেভাবে পারছে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কেন্দ্র থেকে অনুমতি নিচ্ছে না।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলছেন, পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা আওয়ামী লীগ থেকে ছাড় পাওয়া ২৬ আসন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বাকি প্রার্থীদের তারা মাঠে ছেড়ে দিয়ে বলে দিয়েছেন— আপনারা মাঠে থাকলে থাকেন, না থাকলে নাই। সবকিছু আপনাদের নিজ দায়িত্বে করতে হবে। এমনকি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করা হচ্ছে না।

সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ছাড় পাওয়া ২৬ আসন নিয়ে ব্যস্ত আছে কেন্দ্র। আমি শুনেছি, অনেক প্রার্থী ঢাকা গিয়েও কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা পাচ্ছেন না। আমি নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করি নাই।

ঢাকা-১৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু। শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। সেন্টু ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটা ভালো দল ছিল। সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা মনোনয়ন কিনেছেন। ২৮৭ আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সবাই হতাশার মধ্যে পড়ে আছে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব কারো সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না প্রার্থীদের। কেউ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। অর্থাৎ নেতাবিহীন নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টি।

ঢাকা-৭ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন মিলন। যদিও সেই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি নন বললেই চলে। মিলন ঢাকা পোস্টকে বলেন, দলের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। প্রচার চালিয়ে যাব, বাকিটা আল্লাহর হাতে।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাকির হোসেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের মাঠে নেই। তার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছিল না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হয়ে গেছে, এখন আর নির্বাচন করে আমাদের লাভ নেই। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আসন ভাগাভাগির কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ‍মুজিবুল হক চুন্নুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে একাধিক খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।