Hathazari Sangbad
হাটহাজারীবৃহস্পতিবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বামীর সঙ্গে মিলে প্রেমিককে হত্যা করেন গৃহবধূ

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩ ৬:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নাইম হোসেন নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ভাড়াটিয়া দম্পতি রেজ্জাকুল ওরফে রাজ্জাক ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পাঁচবিবি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টি বলেন, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নাইমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে ওই দম্পতি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী বাজার এলাকার সামছুল ইসলামের বাড়ির গোসলখানা নির্মাণের জন্য টয়লেটের পাশে মাটি খনন করার সময় মানুষের হাড়গোড়সহ গলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহটি নাইম হোসেনের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে নাইম হোসেনের মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সামছুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া দম্পতি রেজ্জাকুল ও তার স্ত্রী সাবিনা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, সাবিনার সঙ্গে নাইমের পরকীয়ার সম্পর্ক হয়। রেজ্জাকুল পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। একপর্যায়ে স্ত্রীও তার কাছে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন। নাইমের সঙ্গে সাবিনা সর্ম্পক রাখবে না বলে তার স্বামীকে কথা দেন। এরপরও সাবিনার মোবাইল ফোনে নাইম কল করতেন। সাবিনা তাকে বিয়ে করার কথা বললে নাইম এতে রাজি হতেন না। শুধু সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। এটি সাবিনা তার স্বামীকে জানায়। গত ঈদুল ফিতরের দিন রাত ৯টার দিকে নাইম সাবিনার সঙ্গে দেখা করতে তাদের ভাড়া বাড়িতে যান। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে ২৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নাইমকে খাওয়ান সাবিনা।

এ সময় রেজ্জাকুল ওই ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বামী খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে দুজনে মিলে নাইমের গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নাইমের পরনের শার্ট, মোবাইল ফোন ও জুতা আগুনে পুড়িয়ে দেন। তারা ভাড়া বাড়ির টয়লেটের পাশে ফাঁকা জায়গায় বস্তাবন্দি করে নাইমের মরদেহ পুঁতে রাখেন। মাটি খননের শব্দ শুনে কেউ যেন টের না পায় সেজন্য রেজ্জাকুলের স্ত্রী সাবিনা পানি ঢালার শব্দ করতে থাকে। মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা শেষ হওয়ার পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি যাতে কেউ সহজেই না জানতে পারে এর জন্য ওই স্থানে কিছু সবজির গাছ লাগান।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ খান বলেন, নাইম হোসেন হত্যা মামলার দুই আসামী স্বামী-স্ত্রী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নাইম হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি শেষে দুই আসামিকে করাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ধরঞ্জী বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাইরে বের হয়ে বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ২৫ এপ্রিল পাঁচবিবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার মামা ওহেদুল ইসলাম। জিডির পর নিখোঁজ নাইমের সন্ধানে পুলিশ তৎপর থাকলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সাড়ে চার মাস পর গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী বাজার এলাকার সামছুল ইসলামের বাড়ির মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়।