Hathazari Sangbad
হাটহাজারীবুধবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩

মির্জা ফখরুলকে ‘মিস’ করছেন ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্ক:
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলে থাকায় বাকযুদ্ধের অনুপস্থিতি উপলব্ধি করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি।

কারাগারে থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করছেন কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না… থাকলে ভালো হতো। এই যে… মানে এটা… এমন একটা বিষয় যে কথাবার্তার মধ্য দিয়ে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা। এতে গণতন্ত্রই লাভবান হয়। এখন এখানে আইনের ব্যাপার যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তো করণীয় কিছু নেই, থাকলে ভালো হতো। উনি আমার কথার জবাব দেন, আবার আমি তার কথার জবাব দিই। এটা তো এক ধরনের… এটা একটা ইন্টার-অ্যাকশন এক্সচেঞ্জ। এটা একটা ফাইন এক্সচেঞ্জ।’

‘আমি অভ্যাসগতভাবে মিস করা বলি, ঐভাবে বলতে চাই না। আমি বলছি, ওনার সঙ্গে প্রতিদিনই যে কথাবার্তা, যে কাউন্টার হয়। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনিও আক্রমণ শানিত করেন। তো সেটার জবাব দিতে ভালো লাগে। আক্রমণ শানিত করলে তার সঠিক উত্তরটাও আমাদের দিতে হয়। সেদিকটা অবশ্যই এখন অনুপস্থিত। এটা ঠিক। মিস-টিস এগুলা বলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি কোন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এটা আমাদের প্রশ্ন। এটা নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে নাশকতার মাধ্যমে বানচাল করা।’

‘আজ তারা গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, তারা কিছু প্ল্যান তৈরি করে রেখেছে, তারা চায় গুপ্ত হামলা, গুপ্ত হত্যা। আজ বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি– এসব অপকর্ম বিএনপির দোসররা করতে চায়। এর জন্য আমরা সতর্ক পাহারা আরও জোরদার করেছি।’

বিএনপির নাশকতা প্রতিরোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারও দায়িত্ব আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এ নির্বাচন আমাদের সফল করতে হবে, শান্তিপূর্ণ করতে হবে। ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সমমনা সবার সঙ্গে আমরা বসছি, আলাপ আলোচনা করে যাচ্ছি। দেশের মানুষকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখার চক্রান্ত করছে বিএনপি। এর মধ্যেই ব্যাপক ভোটার উপস্থিত করতে হবে। তারা যতই নাশকতা করুক, মানুষ নির্বাচনমুখী, মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ। উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যরা ভেবেছিল বড় দল নেই, নির্বাচনের পরিবেশ ম্লান হয়ে যাবে, ভোটে জাগরণের ঢেউ থাকবে না। নির্বাচন কেন্দ্রিক উৎসবমুখর পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে। ৭ জানুয়ারি ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ভালো নির্বাচন হবে।’

কাদের বলেন, ‘আমরা এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও পারফেক্ট করব, আমাদের গণতন্ত্র বিকাশমান। পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্র পারফেক্ট নয়। আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি যাই আছে, এসব দূর করে আমরা গণতন্ত্রের পথকে আরও মসৃণ করব।’

জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘জোট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা, গুজব আছে। আমরা সতর্ক আছি। গুজব, গুঞ্জন, সন্ত্রাস, সহিংসতা আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আমরা বিচলিত হব না, আমরা সব জেনে শুনেই নির্বাচনে।’

‘নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচন বিরোধী অপতৎপরতার জবাব দেব।’

জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমাদের তারা তো বলেছে, তারা নির্বাচনে আছে, জোটে থাকতে চায়। তারা তো সরে যাবে বলেনি। সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে, এটা নিয়ে আমরা আরও নিশ্চিত হতে চাই। ১৭/১৮ তারিখ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি। অস্বস্তির কিছু নেই।’

‘এটাও আমাদের আরেকটা নতুন অভিজ্ঞতা, কি হবে জোট প্রার্থী যারা হবে, সেখানে স্বতন্ত্র আছে।’

দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাহস দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উঠিয়ে দিতে পারব না। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে। আমরা তো জোর করে বসিয়ে দিতে পারি না। এখানে আপস করার সুযোগ নেই।’

বিএনপি নেতা রিজভীকে উদ্দেশ করে কাদের বলেন, ‘এই যে বিএনপির বর্তমান অনাবাসিক প্রতিনিধি রিজভী আহমেদ ১০-১২ জন লোক নিয়ে বের হয়। কি করে, অসুস্থ একটা লোক। রিজভীকে দেখেও আমরা না দেখার ভান করি।’

জামায়াত-বিএনপি শেষ পর্যন্ত কি করতে পারে বলে মনে করেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে তারা এক মোহনায় একাকার হবে। বিএনপি মানে জামায়াত, আর জামায়াত মানে বিএনপি। দুঃখ হয়, বিএনপির বি টিম জামায়াত থেকে ক’দিন পর জামায়াতের বি টিম হয়ে যাবে বিএনপি।’

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সদস্য মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।