Hathazari Sangbad
হাটহাজারীসোমবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

নৌকা বনাম ‘আওয়ামী’ স্বতন্ত্র, ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ

অনলাইন ডেস্ক:
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও জোরেশোরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন ঘিরে উৎসব-উদ্দীপনার পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ-সহিংসতা। ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, ততই সহিংসতা বাড়ছে। মূলত নৌকা ও ‘আওয়ামী’ স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মী-সমর্থকরা ছড়াচ্ছেন উত্তাপ। এমন অবস্থায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় আছেন অনেকে। আর পুলিশ বলছে, তারা সজাগ আছে। কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া হবে না।

তবে উত্তাপ-উত্তেজেনার মাঝেও আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাময়’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

এদিকে, নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘আসন ভাগাভাগির নির্বাচন’ নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি নয় চট্টগ্রাম বিএনপি।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা এ নির্বাচন মানি না। এটা তো আসন ভাগাভাগির নির্বাচন। তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেরাই খেলোয়াড়, নিজেরাই রেফারি, নিজেরাই সবকিছু। তাই এ আসন ভাগাভাগির নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা জানান দিচ্ছে এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। প্রত্যেকটি আসনে ৪ থেকে ৫ জন করে প্রার্থী আছেন। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হানাহানি, সংঘর্ষ ও সহিংসতা, উস্কানিমূলক বক্তব্য, কটুক্তি কিংবা প্রচারণায় হামলা আমরা চাই না।’’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। অন্যের মতামত হয়তো আমি মেনে নিব না। কিন্তু অন্যের মত শোনার মতো মানসিকতা সবার থাকতে হবে। নির্বাচনে যুক্তি দিয়ে, পথসভা, জনসভা কিংবা জনসংযোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বিদের জবাব দিতে হব;, অস্ত্র, মারামারি কিংবা শক্তি প্রদর্শন করে নই।’

ড. ইফতেখার বলেন, ‘বিএনপি ভোট বর্জন করে ভুল করেছে। তারা নির্বাচনে এসে জনগণের ম্যান্ডেট নিতে পারতো। কিন্তু এখন উল্টো ভোটে না এসে জ্বালাওপোড়াও শুরু করেছে। এতে জনগণ তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে বিএনপি না এলে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে বলে আমি আশাবাদী। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করছে। নির্বাচনকেন্দ্রীক যাতে কোনো সহিংসতা না হয়; সেদিকে সজাগ থাকতে প্রশাসন ও প্রার্থীদের আহ্বান জানাই।’

চার আসনে হামলার যত ঘটনা-

গত ২১ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ড. আবু রেজা নদভীর স্ত্রীর প্রচার বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় এমপির শ্যালক ও চরতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এমপি নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমার ভাইসহ অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

এদিকে, চট্টগ্রামের পটিয়ার বুধপুরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। সামশুল হক চৌধুরী এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ঈগল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০ ডিসেম্বর বিকেলে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় হুইপের গাড়িসহ মোট ৬টি গাড়ির চাকা কেটে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন এই ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক। এতে অন্তত ৮ জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বাঁশখালীতে সহিংসতার অভিযোগে সাংবাদিকসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের (ঈগল প্রতীক) সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এক সমর্থক। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী শীলকূপের এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বাদীসহ এমপির কর্মী-সমর্থকদের উপর কিরিচ দিয়ে হামলা করে আসামিরা। ওই সময় বন্দুক উচিয়ে আসামিরা গুলি করার হুমকিও দিয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর বাইরে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এলাকা সন্দ্বীপে। নৌকার কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন রবিবার রাতেও।

থানার নিয়মিত ফোর্স দিয়েই নিরাপত্তা-

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পংকজ দত্ত বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো আসনকে আলাদা করা দেখা হচ্ছে না। সব আসনকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে— যাতে প্রার্থীদের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আরও বলেন, ‘পুলিশ থেকে আগে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল— যাতে যেদিন যেখানে প্রচারণা চালানো হবে; তা যেন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নেয়া হয়। প্রার্থীরাও আমাদের সেভাবে একটা পরিকল্পনা জানিয়ে দিয়েছেন কে কোথায় কখন যাবেন। সেভাবে ওই এলাকায় যদি কোনো ঝামেলাপূর্ণ কিছু তথ্য থাকে; সেই হিসেবে সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ পাঠিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আলাদা কোনো ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট থানার ফোর্স দিয়েই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত এসপি ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘জেলা পুলিশ যেকোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। কেউ অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আমাদের নজরদারি আছে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে রয়েছে। কোথাও ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে-এমন তথ্য পেলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এতে আমরা অনেকগুলো সংঘাত থেকে রেহাই পাচ্ছি।’

সূত্র: সিভয়েস ২৪